মূ’তাহ্ বিয়ে আর নিকাহ্ এর মধ্যে পার্থক্য কি?

বিবাহ

র‌্যাডিকাল নিউজ ২৪ ডেস্ক: ❛❛মূ’তাহ্ বিয়ে আর নিকাহ্ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। নিকাহ্ ঐ জিনিসকে বলা হয় যখন কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়্যাতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

এটা আলাদা কথা যে পরবর্তীতে (দুজনের মাঝে) তিক্ততা চলে আসল, বৈরি পরিস্থিতি তৈরি হল অত:পর তালাক দিয়ে দেয়া জরুরী হয়ে পড়ল কিংবা স্ত্রী ‘খোলা’ নিয়ে নিল। কিন্তু নিকাহ্ হল সারাজীবন তাকে সাথে রাখার নিয়্যাতে চুক্তিবদ্ধ হওয়া। আর শরীয়তে এটাকেই জায়েজ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মূ’তাহ হল এর বিপরীত জিনিস। যেমন- কোন ব্যক্তি এক সপ্তাহের জন্য কোথাও গেল এবং বলল,”আমি এক সপ্তাহের জন্য তোমাকে বিয়ে করে নিব”(অর্থাৎ কোন নারী ও পুরুষ অল্প সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিয়ে করা) অথবা নিজের আয়েশের (সঙ্গমসুখের) জন্য কিছু পয়সা দিয়ে একরাত কিংবা দুইরাতের জন্য বিয়ে করে ফেলা (ইসলামী পরিভাষায় এর নাম হলো মূ’তাহ্ বিবাহ)।

এটা আসলে নিকাহ্ (বিয়ে) নয় বরং এটা যেনার একটি সুরত। সত্যি বলতে ইসলাম আসার পূর্বে অর্থাৎ যাহিলী জামানায় এই প্রথার প্রচলন ছিল। ইসলাম আসার পরে পূর্বযুগের অনেক প্রথা ধাপে ধাপে হারাম করা হয়। যেমন যাহিলী যুগে মদ পান করা হত, ইসলাম আসার পরও কিছুকাল তা জায়েজ ছিল অত:পর সেটাকে হারাম ঘোষণা করা হয়।

তদ্রুপ যাহিলী যুগের এই মূ’তাহ্ বিয়ে ইসলাম আসার পরও কিছুকাল চলে, অত:পর খাইবরের যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মূ’তাহ্ বিয়েকে পুরোপুরি হারাম ঘোষণা করেন। এখন ইসলামে এটার (মূ’তাহ্ বিয়ের) সামান্যতম সুযোগ নেই।❞

হাফিয সালাউদ্দীন ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ্)

পাদটীকা:

১। নিকৃষ্ট শি’আ সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে মূতাহ্ বিয়ে এখনো প্রচলিত আছে। একসাথে একজন মুসলিম চার স্ত্রীর বেশি রাখতে পারে না কিন্তু মূ’তাহ্ বিয়ের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। মুূতাহ্ বিয়ের মাধ্যমে একজন মুসলিম ইচ্ছে করলে যেকোন নারীর সাথে সঙ্গমসুখ লাভ করতে পারবে।

মূতাহ্ বিয়ের কোন কাজী বা সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। কয়েকটি আয়াত পাঠের মাধ্যমে এ বিবাহ সম্পন্ন করা হয় এবং এ বিয়ের কোন তালাক নেই। চুক্তি শেষে যে যার মতো করে আলাদা হয়ে যায়। অথচ রাসূল (ﷺ) চুক্তি করে অস্থায়ী বিয়ের প্রথা বাতিল করেছিলেন এবং বলেছিলেন – “শোন, আজ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তোমাদের জন্য অস্থায়ী বিয়ে বাতিল হল, যারা মোহরানা দিয়েছো তা ফেরত নিও না।”— মুসলিম: ৩২৬২।

২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্নীত – খাইবরের যুদ্ধের দিন রাসূল (ﷺ) মূ’তাহ্ বিয়ে ও গাধার মাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ করেন” — স্বহীহ বুখারী: ৫২৭।

৩। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আরো বলেছেন,”হে মানব সম্প্রদায়, আমি অস্থায়ী বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলাম কিন্তু আল্লাহ্ সেটা (এখন) কেয়ামত পর্যন্ত নিষেধ করেছেন। অতএব যাদের কাছে এখন এমন অস্থায়ী স্ত্রী আছে তারা তাদেরকে মুক্ত কর, এবং তাদেরকে যে মোহরানা দিয়েছো সেটা ফেরত নিও না।” — স্বহীহ মুসলিম: ৩২৫৫।

উৎস: https://youtu.be/8tl0cmvDvvY

অনুবাদক: আখতার বিন আমীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *