মসজিদে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো, ইমাম গ্রেপ্তার

জাতীয়

র‌্যাডিকাল নিউজ ২৪ ডেস্ক: রাজধানীর দক্ষিণখানের সরদারবাড়ী জামে মসজিদে ৩৩ বছর ধরে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আব্দুর রহমান। পাশাপাশি শিশুদের কোরআন শিক্ষাও দেন তিনি।

গত বুধবার রাতে সাবেক ছাত্র আজহারকে (৩০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। এরপর লাশ গুম করতে ছয় টুকরো করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

আজহারকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মাওলানা মো. আব্দুর রহমানকে আজ মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১-এর সদস্যরা। সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে আজহারের লাশের ছয় খণ্ড গলিত অংশ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম এসব তথ্য জানান।

আব্দুল মোত্তাকিম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, অভিযুক্তের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কারণ, ভুক্তভোগীর ছেলে মো. আরিয়ান (৪) ওই মসজিদের মক্তবে পড়ালেখা করত। শুধু তাই নয়, আজহারও ইমাম আব্দুর রহমানের কাছে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইমাম প্রায়শ আজহারের বাসায় যেতেন।’

র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, ‘গত ১৯ মে অর্থাৎ বুধবার রাতে আজহার মসজিদে যান। তারপর ইমামের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। ইমাম আমাদের বলেছেন, আজহার এসে অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তিনি নাকি পরকীয়া করেন। অথচ এটি মিথ্যা অভিযোগ। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আজহারকে কোপ দেন ইমাম আব্দুর রহমান। এতে আজহার ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঘটনা লুকাতে তিনি লাশ টুকরো করেন।’

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আব্দুল মোত্তাকিম বলেন, ‘মো. আব্দুর রহমান স্বীকার করেছেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি একাই আজহারকে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরো করেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে আমরা আজহারের স্ত্রীকে আজ হেফাজতে নিয়েছি। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আর কোনো মোটিভ আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছি আমরা। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *