পানি দিয়ে চলা ভেকু বানিয়ে তাক লাগিয়েছে গোলাম মাওলা রনি

ভাইরাল নিউজ

র‌্যাডিকাল নিউজ ২৪ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে এক বছরের অধিক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ সময় খেলার ছলে আবিষ্কারে মন দিয়েছিল পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরের দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মাওলা রনি।

আগে থেকে বিজ্ঞানের বিষয়ে তেমন কোনো ধারণা না থাকলেও নিজের প্রচেষ্টায় নতুন নতুন আবিষ্কারে তাক লাগিয়েছে ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী। পরিত্যক্ত ফোম, কাগজ, স্যালাইনের পাইপ, মোটর,তার ও সিরিঞ্জ দিয়ে তৈরি করা পানি দিয়ে চলা ভেকু মেশিন, পানিতে চলা প্লেন ও পরিচালক ছাড়া বাণিজ্যিক খাবারের মেশিন বানায় শিশুটি।

রোববার বিকালে উপজেলার ডাকবাংলো সড়কে প্রদর্শনের সময় তা দেখতে ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা। তবে অর্থ সংকটে বড় আবিষ্কারে মন দিতে পারছে না ক্ষুদে ওই বিজ্ঞানী।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুবাদে ৬ মাসে আগে আবিষ্কারে ঝুঁকে পড়ে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মাওলা রনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময় পেলেই রনি বসে পড়ে পরিত্যক্ত সব জিনিসপত্র নিয়ে।

দীর্ঘ পরিশ্রম শেষে গত কয়েক দিন আগে রনি স্যালাইনের পাইপ,সিরিঞ্জ,কাগজ ও প্লাস্টিক দিয়ে একটি ভেকু মেশিন তৈরি করে। মেশিনটি সম্পূর্ণ পানি দিয়ে চলবে। আর তা দিয়েই বাস্তবের ভেকু মেশিনের মতো ঘুরে ফিরে মাটি কাটতে সক্ষম হবে। আর তার এ উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটতে কোনো অর্থের খরচ হবে না।

এছাড়াও রনি ব্যাটারি, কাগজ, গাম, কলম, তার, মোটর ও বাহারি রংয়ের বাতি দিয়ে তৈরি করেছে পরিচালকবিহীন একটি বাণিজ্যিক মেশিন। যে মেশিনে টাকা দিলেই বেরিয়ে আসবে খাবার। সেই সঙ্গে মেশিনে সেট করা নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড প্রেস করলেই বের হবে খাবার। তবে সেটা অফিস-আদালতের জন্য প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে রনি।

রনি আরও জানায়,সে ফোম দিয়ে একটি প্লেনও আবিষ্কার করেছে; যা পানিতে চলবে চালক ছাড়া।

রনি তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলে- অর্থ সংকটের কারণে নিজে ছোট করে স্বপ্ন দেখি। বাবা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে আমার এ আবিষ্কার আমি বাস্তবে বড়দের মতো রূপ দিতাম। আমার বাবা দশমিনা সদরে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে হোটেলের ব্যবসা করেন। যার কারণে অর্থ সংকটে আমি চাইলেও বড় কিছু আবিষ্কার করতে পারছি না।

রনির বাবা মো. নাসির উদ্দিন প্যাদা জানান, আমার ছেলের আবিষ্কার দেখে আমি মাঝে মধ্যে অবাক হই। সামর্থ্য থাকলে ছেলের আবিষ্কারের জন্য সহযোগিতা করতাম।

প্রদর্শনের সময় দেখতে আসা বিমল কুমার জানান, ছোট শিক্ষার্থীর আবিষ্কার দেখে আমি অবাক হয়েছি। আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে ক্ষুদে এ বিজ্ঞানী একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন সৈকত জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল আবিষ্কারকে আমি সমর্থন জানাই। তাদের আমি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *