ইরান ও হামাস সত্যিই কি ফিলিস্তীনীদের সাহায্য করছে?

বিবিধ

র‌্যাডিকাল নিউজ ২৪ ডেস্ক: ❛❛ আমরা যদি এই সমস্যার গভীরে যাই তাহলে এটা অনেক লম্বা ও জটিল বিষয়। কিন্তু সংক্ষেপে আপনি এতটুকু জেনে রাখুন যে, ফিলিস্তিনে হামাস নামক যে সংগঠনটি রয়েছে, তারা ইখওয়ানীদের সহচর। এদের উপর ইখওয়ানীদের কর্তৃত্ব রয়েছে। আর ইখওয়ানীদের সাথে রাফিদ্বীদের পুরাতন সখাতা রয়েছে । ইরান ও হামাসের মধ্যে সম্পর্ক আছে — এতে কোন সন্দেহ নেই।

ইরান হামাসকে সমর্থন করে। এখন এর ভিতরকার অবস্থা কি, তারা ঠিক কতটুকু সমর্থন করে — সেটা আমরা জানিনা। বাহিরের মিডিয়ায় যা বলাবলি হচ্ছে, আমরা শুধু তা শুনতেছি। কথা হল, কেন এমন হয়না যে, ইরান হামাসের সাথে মিলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করছে? অথচ ইসরাইল ফিলিস্তিনকে জোর-জবরদস্তি টুকরো করে ফেলেছে। ওখানে হামাস উপস্থিত থাকা স্বত্তেও ইরান কেন দলবদ্ধভাবে ইসরাইলের সাথে সরাসরি লড়াই করছে না — যেভাবে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনে তারা যুদ্ধ করছে, তাদের আর্মি জেনারেল ও কর্ণেলরা স্বশরীরে উপস্থিত থেকে তদারকি করছে!?

দ্বিতীয়ত আরেকটা ভয়ংকর জিনিস বলব যা আপনার কাছে অবিশ্বাস্য লাগতে পারে, হামাসের সাথে ইরানের বন্ধুত্বের উদ্দেশ্য (এই বন্ধুত্ব যদি কায়েম থাকে আর আমরা জানিনা যে এই বন্ধুত্বের শিকড় কত গভীরে) ও পরিকল্পনা রয়েছে তাতে আপনি জেনে রাখুন, ইরান যতক্ষণ হামাসের সাথে লেগে থাকবে (বন্ধুত্বের ভান করে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের কোন আন্দোলন সফলতার মুখ দেখবে না। আপনি একথা পাথরের মধ্যে খোদাই করে লিখে রাখুন। কোন রাফিদ্বী কারো সাথে (কোন সুন্নীর সাথে) লেগে থেকে (বন্ধু হয়ে) ইয়াহুদীর খেলাফ সুন্নীদের সাহায্য করবে — এটা হতেই পারেনা।

ইরান যে হামাসকে সমর্থন দিচ্ছে সে-সম্পর্কে দুটো কথা বলি, বিশ্বস্ত সুত্র মোতাবেক আজ গাজাতে এতো দ্রুততার সাথে শিয়া-ইজম ছড়াচ্ছে যে সেখানকার বাচ্চারা শিয়াদের কিতাবাদী পড়ছে, এমনকি শিয়াদের মাদারিস্ও খোলা হয়েছে। হামাসের পাশে ইরান থাকার কৌশলগত কারণই হল, সেখানে শিয়া-মতবাদের উত্থান ঘটানো এবং তাদের মতবাদ দিক্বিদিক প্রচার করা।

আপনি শুনে আরো আশ্চর্য হবেন যে, এতো দ্রুত শিয়াবাদ গাজাতে ছড়ানো হয়েছে যে, সুন্নীরা (যারা মাযলুম ও হামেশাহ ইসরাইলের লক্ষবস্তু ছিল) তারা একদিকে জাতিগতভাবে ইসরাইলের নিপীড়নের শিকার, অন্যদিকে আক্বীদাহ (বিশ্বাস) ও মানহাজ (কর্মনীতি)-এর দৃষ্টিতে শিয়াদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়ে গেছে। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে কিছুদিন পরে আপনারা জানবেন যে, সেখানে শিয়ারা উল্টো সুন্নীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে।

তখন ইরানের আর হামাসকে দরকার পড়বেনা। হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইরান যেভাবে লেবাননে ঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে, ঠিক সেভাবে গাজাতেও বানাবে। আর যখন ফিলিস্তিনে রাফিদ্বীদের শক্তিশালী ঘাঁটি হয়ে যাবে, তখন তারা যা বিপর্যয় ঘটানোর তা ঘটাবে।

আপনি জেনে আরো অবাক হবেন যে, অতীতে ফিলিস্তিনে সুন্নীদের উপর যে গণহত্যা হয়েছে সেটা কে করেছে? আপনি হয়তো মনে করতে পারেন ইসরাইল করেছে! না। বরং ইসরাইল যা করেছে তারচে বহুগুণ বেশি খোদ হিজবুল্লাহ্ ও ইরানীরা করেছে। প্রসিদ্ধ “সাবরা” ও “শাতিলা” — যেখানে সুন্নীদের জবাই করা হয়, কারা করেছিল জবাই? এদেরই (শিয়া) লোক ছিল, যাদেরকে দিয়ে এরা জবাই করিয়েছে।

এরা নিজেরাও চাইতো না যে, ফিলিস্তিনি মুহাজিররা লেবাননে এসে শক্তিশালী হউক, তাদের লোকবল বেড়ে যাক! আর তাই খোদ তাদেরকে ধরে ধরে জবাই করত নিজেদের বর্ডার সুরক্ষিত রাখবার জন্য। এটা এদের একটা খেল (চল-চাতুরী) আর এরা (শিয়ারা) দুনিয়াকে এসব (আয়নাবাজি) দেখাচ্ছে। এদের সহযোগীতা বড়ই আশ্চর্যজনক আর হাস্যকর হয়ে থাকে।

এরা কিভাবে বিশ্বব্যাপী মাযলুমদের সহায়তা করে তার একটা দৃষ্টান্ত আপনাকে দেই, এরা একবার সহায়তার নামে ইয়েমেনে জাল ডলার দিয়েছিল (যা তখন মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছিল) হুসীদের জন্য। এদের সাহায্য হউক আর্থিক অথবা সাময়িক — তা লোক দেখানো আর মিথ্যে হয়ে থাকে। এমনকি এরা তখন ইয়েমেনে যে খাদ্য সামগ্রী পাঠায় সেটাও মেয়াদ-উত্তীর্ণ ছিল এবং তা তাদেরকে ফিরিয়েও দেয়া হয়েছিল। এই হল উম্মাহর জন্য এদের সাহায্য-সহযোগীতার নমুনা।

ইরান এমন একটা দেশ আর শিয়া এমন এক জাতি যারা কখনো কোন সুন্নীর সহযোগী হতে পারেনা। যদি কখনো সহায়তা করেও থাকে, তাহলে এক এর বদলে দশ বা একশ গুণ ফাইদাহ মিলবে (এমন অংক কষে) তারপর সাহায্যের হাত উন্মুক্ত করে। এরা বিলকুল ইয়াহুদীদের বৈশিষ্ট্য পেয়েছে। এজন্যই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ও তার ছাত্ররা প্রায়শই তাদেরকে (রাফিদ্বীদেরকে) ইয়াহুদীদের সাথে তাশবীহ (সাদৃশ্য) দিতেন আর বলতেন, শিয়ারা মুসলিমদের জন্য ইয়াহুদী-নাসারাদের চাইতেও অধিক ক্ষতিকর।❞

শাইখ ড.ওয়াসিম আল-মাদানী (হাফিযাহুল্লাহ)।

⦁ উৎস: https://youtu.be/iOg3pMwA4mg

⦁ ফুটনোট:

১. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “রাফিদ্বীরা মুসলিমদের জন্য ইয়াহুদী-নাসারাদের চাইতেও বেশী ভয়ংকর। তিনি আরো বলেন, এরা (রাফিদ্বীরা) হল ইয়াহুদীদের গাধা, প্রতিটি ফিতনার জন্য যাতে আরোহণ করা হয়”— [মিনহাজুস সুন্নাহ ১/২০-২১]।

২. তাঁর ছাত্র ইমাম ইবন কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “শিয়াদের রক্ত প্রবাহিত করা মদ প্রবাহিত করে ফেলে দেয়ার চেয়ে অধিক ন্যায়সঙ্গত।” — [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪১৭-৪১৮ পৃ/ খণ্ড ৫]।

৩. ইমাম শা’বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “শিয়া জাতি যদি পাখি হত তাহলে শকুন হত, জন্তু হলে গাধা হত’।”
— [শরহুস সুন্নাহ-আল আলকায়ী, ১২৬৭/৭ ]।

অনুবাদক: আখতার বিন আমীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *